Blue Whale
ছবি: ফেসবুক থেকে

'আজ রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাংলাদেশের সব অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ব্লু হোয়েল গেম ঢুকিয়ে দেওয়া হবে' উল্লেখ করে বিটিআরসির নামে একটি বার্তা ছড়িয়ে পরেছে ফেসবুকে। তবে বিটিআরসি জানিয়েছে, ব্লু হোয়েল সম্পর্কিত এ বার্তাটি ভুয়া। এই ভুয়া বার্তায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশের সব মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে অনুরোধ করেছে তারা।

শুক্রবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সচিব ও মুখপাত্র সরওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, বিটিআরসির নাম ব্যবহার করে একটি মিথ্যা বার্তা ছড়ানো হচ্ছে।

ওই মিথ্যা বার্তায় বলা হয়, 'আজ ১৩ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দেশের সব অ্যানড্রয়েড (Android) ফোনে ব্লু হোয়েল (Blue Whale) গেম ঢুকিয়ে দেয়া হবে যা প্রবেশের ফলে আপনার ফোনের সকল পারসোনাল ইনফরমেশন, ফেসবুক, ট্যুইটার, ইমো, হোয়াটস অ্যাপসহ সকল কিছু ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আপনার ফোন বন্ধ রাখুন, আর দেশের সেবায় এটি বেশি বেশি ফরোয়ার্ড করুন। '

এ ধরনের আহ্বান জানিয়ে প্রচার করা বার্তাটি ফেসবুক মেসেঞ্জার, ভাইবারসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে বার্তা প্রেরক হিসেবে ‘জনসচেতনতায় বিটিআরসি’ কথাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বার্তার বিষয়ে বিটিআরসি জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বার্তা বা খবর প্রকাশ বা প্রচার করা হয়নি এবং বার্তাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিটিআরসির নাম ব্যবহার করে এ রকম মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বার্তা প্রচার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে এ ধরনের সাইবার অপরাধ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

‘ব্লু হোয়েল’ হল একটি অনলাইন সুইসাইড গেম। এই গেমের ৫০টি ধাপ রয়েছে। যার সর্বশেষ পরিণতি আত্মহত্যা। লেভেল ও টাস্কগুলো ভয়ঙ্কর। গেম যত এগোবে টাস্ক তত ভয়ঙ্কর হতে থাকবে।

প্রথমদিকের টাস্কগুলো মজার হওয়ায় সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে কিশোর-কিশোরীরা। কেউ খেলায় ইচ্ছুক হলে তার কাছে পৌঁছে যায় নির্দেশাবলি। সেইমতো নির্দেশ বা চ্যালেঞ্জগুলে একে একে পূরণ করে তার ছবি পাঠাতে হয় গেম হ্যান্ডলারকে।

২০১৩ সালে রাশিয়ায় শুরু হয় এই প্রাণঘাতী গেম। প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে দু’বছর পরে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, নীল তিমিরা মারা যাওয়ার আগে জল ছেড়ে ডাঙায় ওঠে যেন আত্মহত্যার জন্যই। সেই থেকেই এই গেমের নাম হয়েছে ‘ব্লু হোয়েল বা নীল তিমি’।

প্রথমে সাদা কাগজে তিমি মাছের ছবি এঁকে শুরু হয় খেলা। তারপর খেলোয়াড়কে নিজেরই হাতে পিন বা ধারালো কিছু ফুটিয়ে নিজের রক্ত দিয়ে আকঁতে হয় সেই তিমির ছবি। একা ভূতের ছবি দেখতে হয়, আবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঘুম থেকেও উঠতে হয়। চ্যালেঞ্জের মধ্যে অতিরিক্ত মাদকসেবনও রয়েছে।

গেমের লেভেল যত এগোয়, ততই ভয়ঙ্কর হতে থাকে টাস্কগুলো। এই টাস্কগুলোতে অংশগ্রহণের পর সেই ছবি পোস্ট করতে হয় এর গেমিং পেজে। প্রতিযোগিতার একেবারে শেষ পর্যায়ে অর্থাৎ ৫০তম টাস্কের শর্তই হলো আত্মহনন।

ফিলিপ বুদেকিন নামে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত রাশিয়ার এক মনোবিজ্ঞানের ছাত্র দাবি করে সেই এই গেমের আবিস্কারক। রাশিয়ায় অন্তত ১৬ জন কিশোর-কিশোরী এই গেমে অংশ নিয়ে আত্মহত্যা করার পরে বুদেকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুদেকিন তার দোষ স্বীকার করে নিয়ে বলেছে, যেসব ছেলেমেয়ের সমাজে কোনো দামই নেই, তাদেরকেই সে আত্মহত্যার মাধ্যমে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়ে ‘সাফ’ করতে চেয়েছিল।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েকশ’ কিশোর-কিশোরী এই গেম খেলতে গিয়ে ইতিমধ্যেই আত্মহত্যা করেছে। ভারতেও মারা গেছে বেশ কয়েকজন। শেষ পর্যন্ত এটা হানা দিয়েছে বাংলাদেশেও।

কেন এ ধরনের ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে ওঠে কিশোর-কিশোরীরা? মনোবিদরা বলছেন, ‘ওই বয়সটা এমন যে তখন একটা ডেয়ার-ডেভিল কিছু করে দেখানোর ইচ্ছেটা প্রবল হয়। তবে যারা এরকম গেম বেছে নিচ্ছে, তাদের মনে হতাশা, আত্মমর্যাদার অভাব, মনোকষ্ট- এগুলো থাকেই। সেজন্যই তারা এমন একটা কিছু করে দেখাতে যায়, যাতে লোকে তাদের অকুতোভয় বলে মনে করবে।’

মাঝপথে কেউ খেলা ছাড়তে চাইলে তাকে ব্ল্যাকমেল করে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। এমনকি প্রিয়জনদের ক্ষতি করার হুমকি দেয় তারা।

এই গেমিং অ্যাপ মোবাইলে একবার ডাউনলোড হয়ে গেলে তা আর কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ওই মোবাইলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইলের ইউজারকে এই গেম খেলতে বাধ্য করে।

আপনার মন্তব্য

advertisement