নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্যকে জানাতে পারেন:

sinha
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসার জন্য প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অস্ট্রেলিয়ায় যেতে সব ধরনের সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে তার।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি আগামীকাল বিকেলে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন, এটা আমি জানি।’

এর আগে সকালে প্রধান বিচারপতির বিদেশ গমন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন (জিও) জারি করেছে আইন, সংসদ ও বিচারবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রধান বিচারপতির করা বিদেশ যাওয়ার আবেদনপত্রে অনুমোদন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। 

ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে গত মঙ্গলবার যে আবেদনটি করেন সেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বঙ্গভবনে যায়। এরপর রাষ্ট্রপতি সেই আবেদনে অনুমোদন দেন।

উল্লেখ্য, ২৫ দিনের অবকাশ শেষে ৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট খোলার দিনই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এ নিয়ে রাজনৈতিকমহল ও আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় ওঠে।

এর আগে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায় এবং বিচারিক আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি সংক্রান্ত গেজেট নিয়ে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় প্রধান বিচারপতিকে জোর করে ছুটিতে পাঠানোর অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদসহ আইনজীবী সমিতির একাংশ। তবে সরকার ও আওয়ামী লীগ এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

প্রধান বিচারপতি বা আদালতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই প্রধান বিচারপতি সস্ত্রীক অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পাঁচ বছরের ভিসার জন্য দূতাবাসে আবেদন করেন। দেশটিতে বর্তমানে তাদের বড় মেয়ে সূচনা সিনহা অবস্থান করছেন। তাদের তিন বছরের ভিসা দেয় অস্ট্রেলিয়া দূতাবাস।

এরপর গত ১০ অক্টোবর তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে তার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি চিঠি দিয়ে অবহিত করেন। ওই চিঠিতে আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চান বলে উল্লেখ রয়েছে। তার এই চিঠি আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পরই জিও দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারিতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এস কে সিনহার আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার কথা।

আপনার মন্তব্য

advertisement