অন্যকে জানাতে পারেন:

Rajshahi University
ছবি: বাংলা

রাবি প্রতিনিধি


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে ‘শ্লীলতাহানি’র হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এ রকম হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের তৃতীয় বর্ষেও এক শিক্ষার্থী। 

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। 

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম সারোয়ার হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘ওই ছাত্রলীগ নেতার প্রেমিকা আমাদের সাথে গণরুমে থাকে। সে জুনিয়র হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করায় তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে দুপুরে অপরিচিত নম্বর থেকে কল দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা নিজের পরিচয় জাহির করে ‘অশ্লীল-অশ্রাব্য’ ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ‘শ্লীলতাহানি’ করার হুমকি দেয়।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতার হুমকিতে ওই ছাত্রী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে হলের অন্য ছাত্রীরা জানিয়েছেন। 

হলের আবাসিক ছাত্রীরা জানায়, মন্নুজান হলের গণরুমের ছাত্রীদের গোসল করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ারের প্রেমিকা গণরুমের ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও সেখানে গোসল না করে মঙ্গলবার দুপুুুরে সংগীত বিভাগের ওই ছাত্রীর কক্ষের পাশের গোসলখানায় গোসলে ঢোকেন। সে গোসলখানা থেকে বের হতে দেরি হওয়ায়, সংগীত বিভাগের ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী দরজায় নক করেন এবং দ্রুত গোসল শেষ করে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে ওই ছাত্রী গোসল সেরে বের হলে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। বিষয়টি ওই ছাত্রী তার প্রেমিক ছাত্রলীগ নেতাকে মোবাইলে অবগত করেন। পরে সংগীত বিভাগের ওই ছাত্রীকে মোবাইলে কল করে শ্লীলতাহানির হুমকি দেন ছাত্রলীগ নেতা সারওয়ার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হলের এক আবাসিক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতার প্রেমিকা গোধুলী ছোটখাট বিষয় নিয়ে প্রায় আমাদের সঙ্গে ঝগড়া করে। কিছু বললে ছাত্রলীগ নেতা দিয়ে আমাদের শায়েস্তা করার হুমকি দেন।

হুমকির কথা অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার বলেন, ‘ওই মেয়েটি আমার বান্ধবীকে বিভিন্ন সময়ে বিরক্ত করত। নতুন মেয়েদেও র‌্যাগ দেয়। এজন্য আমি তাকে কল দিয়ে কথা বলেছি। আমার বান্ধবীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছি। কোনো প্রকার হুমকি-ধামকি দেয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমি ঘটনাটা শুনেছি। গত রাতেই বিষয়টি হল প্রাধ্যক্ষ এবং আবাসিক শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে মীমাংসা করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারী মেয়েটি ওই রুমের সবার সঙ্গেই দুর্ব্যবহার করে। সারোয়ারের বান্ধবীর সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেছিল। তবে সারোয়ার ওই মেয়েটিকে ফোন করে হুমকি দিয়েছে কি না সেটা আমার জানা নেই।’

জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিন্নাত ফেরদৌসী বলেন, ‘বাথরুম ব্যবহার নিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। দুজনই অভিযোগ করলে সন্ধ্যার দিকে এসে এটা মিমাংসা করা হয়। তবে হুমকির কথা বলতে পারব না।’

আপনার মন্তব্য

advertisement