অন্যকে জানাতে পারেন:

Jainal Hazari
জয়নাল হাজারী। ছবি: সংগৃহীত

জয়নাল হাজারী


২০০৮ সালের শেষের দিকে সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদ দেশ ছেড়েছেন। সে হিসেবে প্রায় ৯ বছর প্রবাস জীবন-যাপন করছেন।

বিভিন্ন সূত্রে থেকে বলা হয়েছে মঈন উ  আহমেদ ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি প্রথম দিকে অর্থাৎ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশে আসার জন্য খুবই তৎপর হয়ে পড়েছিলেন। প্রচার আছে মঈন উ  আহমেদের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। কয়েকজনকে ডিঙ্গিয়ে খালেদা জিয়া মঈন উ আহমেদকে সেনাপ্রধান করেছিলেন কিন্তু বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে সেনা প্রধান খালেদার সঙ্গে বেঈমানি করেছেন এমনটাই প্রচার। ইতিপূর্বে পাকিস্তানেও ভুট্ট ৭ জনকে ডিঙ্গিয়ে জিয়াউল হককে সেনাপ্রধান করেছিলেন পরে সেই জিয়াউল হকই অন্যায়ভাবে ভুট্টুকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়।

মঈন উ আহমেদ আমেরিকা থেকেই দেশের বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে থাকেন। মঈন উ আহমেদ মনে করেন শেখ হাসিনা তার প্রতি আন্তরিক। আন্তরিক কিনা সেটা বলা না গেলেও শেখ হাসিনার উপদেষ্টারা মঈন উ আহমেদকে কোন প্রকার ছাড় দিতে রাজি নয়। জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে গেলে মঈন উ আহমেদ সর্বশক্তি দিয়ে নেত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের করতে চেষ্টা করেছিল। এমনকি পরিচয় গোপন করে ছদ্মবেশেও নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার একটি উদ্দ্যোগ নিয়েছিল কিন্তু কোনভাবেই সফল হননি। যে কোনভাবেই মঈন উ আহমেদ দেশে আসতে চায় পরোক্ষভাবে নেত্রীর কাছে এই ম্যাসেসটি পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।

মঈন উ আহমেদকে দেশে আসার সুযোগ দিলে সামরিক বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। ১/১১’র সময় বড় বড় ব্যবসায়ীদের ধরে নিয়ে তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে কিছু সেনা কর্মকর্তা। 

 সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদ

তাই সর্বস্ব হারানো ব্যবসায়ীরা এর জন্য মঈন উ আহমেদকে দায়ী করে, ফলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়াই স্বাভাবিক। আর তাকে নিয়ে ঘোলাটে হওয়া মানেই ক্যান্টনমেন্টের প্রতিক্রিয়া হওয়া। কিছু কিছু কারণে নেত্রী তার প্রতি সহনুভুতিশীল হলেও শেষ পর্যন্ত কোন অবস্থাতেই মঈন উ আহমেদকে দেশে আসার অনুমতি দিতে রাজি নয়। তাই সব কিছু বিবেচনায় এনে মঈন উ আহমেদের আবেদনকে শেখ হাসিনা না বলে দিয়েছেন। সরকারের ক্লিয়ারেন্স না পেলেও এমনকি কিছু দিনের জন্য জেলে থাকলেও মঈন উ আহমেদ যেকোন সময় দেশে ঢুকে যেতে পারেন। দেশে তার রয়েছে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। এগুলো হস্তান্তর বা নিষ্পত্তি করা খুবই জরুরি। সেই কারণে ঝুকি নেয়ার চিন্তা করছে। ক্যান্সারের কারণে যেকোন সময় তার মৃত্যু হলে তার বিশাল সম্পত্তি বেহাত হয়ে যেতে পারে।

ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা

আপনার মন্তব্য

advertisement