Gayeshwar Chandra Roy
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: সংগৃহীত

প্রধান বিচারপতি মাঝে মাঝে প্যারোলে মুক্তি পান বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতি গৃহবন্দি না, নজরবন্দিও না। সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মাঝে মাঝে কেউ কেউ দেখা করেন। কিন্তু আইনজীবী সমিতির নেতারা দেখা করতে পারেন না। আমরা যখন জেলে থাকি তখন কোনো আত্মীয় মারা গেলে আমাদের ১ ঘণ্টা বা ২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। প্রধান বিচারপতিও ঠিক তেমনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান। মাঝে মাঝে অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনে যান।’

সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (সাগর-রুনি) মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচার বিভাগ ও প্রধান বিচারপতি ইস্যুতে ক্ষমতাসীন সরকার এ যাত্রায় নিজেদের সফল মনে করলেও ভবিষ্যতে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেন গয়েশ্বর।

তিনি বলেন, ‘এই অপকর্মের সঙ্গে সরকারের সব লোক জড়িত না থাকলেও কিছু লোক জড়িত। হয়তো আজকে মনে হচ্ছে ভালো কাজ করছেন। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের ভয়াল রাতের কথা যদি মনে থাকে, ওই মূহুর্তে মনে হয়নি তাদের প্রতিহত করা যাবে। পরবর্তীতে শুধু তাদের প্রতিহতই করা হয়নি, তাদের বিতাড়িতও করা হয়েছে।’

সুতরাং ২ অক্টোবর বিচারপতির বাসভবনে যারা এই ঘটনাটা ঘটিয়েছেন দিন অথবা রাতে আপাতত সফল হলেও পরিণতি কিন্তু হবে ভয়াবহ।

সর্বোচ্চ আদালত ধ্বংসের নীল নকশার বিরুদ্ধে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট।

সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্যে দেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন মেজবাহ, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ বাহার উদ্দিন বাহার, শেখ মিজানুর রহমান, ফরিদ মিয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।

তিনি বলেন, ‘দুই-এক বছর আগে একবার প্রেস ক্লাবের সামনে বলেছিলাম, সব কোর্টই মুজিব কোর্ট। এজন্য হাইকোর্ট আমাকে তলব করেছিলেন। এতে বিচার বিভাগের নাকি অসম্মান হয়েছিল। অথচ আজকে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে যে আচরণটা করা হয়েছে, বিচার বিভাগের যে আচরণ, সরকারি নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী সংসদে যে অশ্রাব্য, অকথ্য, অসংসদীয় ভাষায় যে সমালোচনা বা গালাগাল করা হয়েছে- এতে গোটা বিচার বিভাগ কী অসম্মানিত হয়নি। মানহানি হয়নি, কিন্তু তাদের ডাকা হচ্ছে না।’

এস কে সিনহার ছুটির বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে এখন বিতর্কের ঝড়। ছুটির দরখাস্ত নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ এ উদ্যোগের মধ্য দিয়েই কিন্তু সব কোর্টই মুজিব কোর্ট করার সরকারের যে নগ্ন প্রচেষ্টা আছে, তাই প্রমাণিত।

গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, প্রধান বিচারপতি এক মাস ছুটি নিয়ে বিদেশ ঘুরে আসছেন কিন্তু সেই ছুটি নিয়ে আইনমন্ত্রী কিছু বলেননি। কোনো বিতর্ক হয়নি। সাংবিধানিকভাবে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে গেলে কারো কাছে যেতে হয় না। ছুটির দরখাস্ত তার টেবিলে রাখলেই হয়। এছাড়া সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে পারেন। প্রথমবার ছুটির সময় তাই দেখলাম। পরবর্তী ছুটি নিয়ে এত কথা হলো কেন?

যদি তিনি ছুটি নিতে চান নিতেই পারেন। ছুটির দরখাস্ত প্রয়োজেন তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে নিজে গিয়ে দিতে পারেন। তিনি যদি এতই অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে তার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও আছেন, তারা পৌঁছে দিতে পারেন।

তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীর কাছে কীভাবে ছুটির চিঠি এলো। যা তিনিই প্রথম প্রকাশ করলেন, প্রধান বিচারপতি ছুটি নিয়েছেন। আর অ্যাটর্নি জেনারেল প্রকাশ করছেন। এখান থেকেই জনগণের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। কারণ এটা তো বঙ্গবভন থেকে প্রকাশ করার কথা। প্রধান বিচারপতির অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কে দাযিত্ব পালন করবেন তা প্রকাশ করবেন। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ে এলো কীভাবে? এটা তো আইনমন্ত্রীর কাজ নয়।

চিঠি ভুলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি ছুটি চাইলে তাহলে তিনি ভুল দরখাস্তে স্বাক্ষর করতেন না। আরও একটা প্রশ্ন আছে আদৌ এই স্বাক্ষর প্রধান বিচারপতির কিনা। কারণ এত কিছু দেখানো হয়েছে টেলিভিশনে কিন্তু এটা দেখায়নি উনি যে স্বাক্ষর করছেন।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি অসুস্থ সেখান থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গেলেন। আইনজীবী রানা দাসগুপ্ত সেখানে বললেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। তারপর অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে গেলেন ভিসার জন্য। কিন্তু তিনি কোনো হাসপাতালে গেলেন না,  এত জায়গায় গেলেন, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করলেন না।

আপনার মন্তব্য

advertisement