নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্যকে জানাতে পারেন:

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

সরকারের প্রতি অভিযোগ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ক্ষমতা জবরদখলকারী সরকার রাষ্ট্রের সব স্তম্ভকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে সার্বিক আক্রমণ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতাকর্মী, ভিন্নমত ও বিশ্বাসের ব্যক্তিদের পাশাপাশি গুম করা হচ্ছে মানুষের বাক-ব্যক্তি ও নাগরিক স্বাধীনতা। ইতিহাসের মাৎস্যন্যায় এখন রাষ্ট্রসমাজে বীভৎস আগ্রাসী চেহারা নিয়ে আসন পেতে বসেছে।’

সোমবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া। আগামীকাল ১০ অক্টোবর শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষে এই বিবৃতি দেন তিনি।

বেগম জিয়া বলেন, ‘শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে একটি অবিস্মরণীয় নাম। রক্তঝরা ওই আন্দোলন ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে গিয়ে শহীদ জেহাদ পুলিশের বুলেট নিজের বুকে বরণ করে নেন। শাহাদাত বরণ করেন এই অকুতোভয় ছাত্রনেতা। তার রক্ত স্রোতের ধারা বেয়েই সে বছর সংঘটিত হয় গণঅভ্যূত্থান, পতন হয় স্বৈরশাসক এরশাদের।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিলেন স্বৈরশাসক এরশাদ। গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই জেহাদ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আমরা তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে না পারলে তার আত্মা কষ্ট পাবে। বর্তমানে ছুরিকাহত গণতন্ত্র আর্তনাদ করছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা এবং এর বিকাশ সাধন করতে হবে, আর এজন্য আমাদের আরও সাহসী সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে। গণতন্ত্র মানে শুধুমাত্র নির্বাচন নয়। গণতন্ত্র মানে মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। আজ জনসাধারণের বুকের ওপর অগণতান্ত্রিক অপশক্তি ভারী পাথরের মতো চেপে বসে আছে। তাই শহীদ জেহাদের আত্মত্যাগের প্রেরণাকে বুকে ধারণ করেই দেশি-বিদেশি অপশক্তির চক্রান্ত প্রতিহত, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সক্ষম হবো।’

আপনার মন্তব্য

advertisement