ফিচার ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

Biscuit
ছবি: সংগৃহীত

অফিসে, চলন্ত পথে কিংবা বাসার অবসরে হাল্কা খিদে পেলেই কিস্কিট সাথে থাকে সবার। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ৮ থেকে ৮০, সব বয়সের সবার সঙ্গী বিস্কুট। তবে এ বিস্কিট শরীরের কোনও ভাল করে না। উল্টো মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। শুধু তাই নয়, ধীরে ধীরে দেহের ভেতরে নানাবিধ ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা বাড়িয়ে নানা সব জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পথকেও অনেকাংশে প্রশস্ত করে। অনেকে মনে করেন দামি কোম্পানির বিস্কুট খেলে শরীরের কাজে লাগে।

বিস্কুট আমাদের শরীরে ক্ষতি করে থাকে। সাধারণত যে যে উপাদানগুলি দিয়ে বিস্কুট বানানো হয়, সেগুলি একেবারেই শরীর বান্ধব নয়। যেমন-

১. ময়দা

বাজার চলতি বেশিরভাগ জনপ্রিয় বিস্কুট বানাতেই এই উপাদানটিকে কাজে লাগানো হয়ে থাকে। রিফাইন্ড ময়দা কিন্তু শরীরের পক্ষে একেবারেই উপকারি নয়। কারণ ময়দা বানানোর সময় গমের অন্দরে থাকা পুষ্টিকর উপাদানগুলি ঝরে পরে যায়। ফলে ময়দা খেলে শরীরে উপকারে তো লাগেই না, উল্টে পেটের নানা ধরনের সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয়, রিফাইন্ড ময়দা হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে আগামী সময়ে গিয়ে ডায়াবেটিকের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

২. হাইড্রোজেনেটেড অয়েল

এই উপাদানটির শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ফ্যাটের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়। সেই সঙ্গে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও দেখা দেয়।

৩. চিনি

মিষ্টি জাতীয় বিস্কুট বানানোর সময় তাতে প্রচুর মাত্রায় চিনি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর ক্রিম বিস্কুটের কথা তো ছেড়েই দিন। এই পরিমাণ শর্করা রক্তে মিশলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে সুগার লেভেল বাড়তে শুরু করে। আর এমনটা দীর্ঘ সময় ধরে হতে থাকলে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই তো যাদের পরিবারে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত মিষ্টি বিস্কুট খেতে মানা করেন চিকিৎসকেরা।

৪. ক্যালরির মাত্রা বৃদ্ধি পায়

অনেকেই মনে করেন বিস্কুট খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে না। এই ধরণা কিন্তু একেবারে ঠিক নয়। কারণ বিস্কুটে কম করে হলেও ৫৬ ক্যালরি থাকে। এই পরিমাণ ক্যালরি ঝরাতে প্রায় ৩০ মিনিট অ্যারবিক্স করার প্রয়োজন পরে, যা কেউই করেন না। ফলে মেদ বৃদ্ধি হতে শুরু করে। তাই এবার থেকে ক্ষিদের চোটে মুঠো মুঠো বিস্কুট খাওয়ার আগে একবার অন্তত ভাববেন, ক্ষিদের কমাতে গিয়ে ওজন বাড়াচ্ছেন না তো!

৫. বিস্কুট খেলে ফাইবারের ঘাটতি মেটে না

যে সব বিস্কুটকে ফাইবার সমৃদ্ধ বলে বাজারে বিক্রি করা হয়, তার বেশিরভাগেই যে পরিমাণ ফাইবার থাকে, তা আমাদের দিনের চাহিদার সিকিভাগও পূরণ করে না। তাই এমন বিস্কুট খেলে দেহে ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, এমনটা ভেবে নেওয়ার ভুল কাজটা করবেন না।

৬. ক্রিম বিস্কুট

বাচ্চারা এই ধরনের বিস্কুট খেতে সাধারণত খুব ভালবাসে। তাই ক্রিম বিস্কুট আদৌ শরীরের পক্ষে উপকারি কিনা, সে বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়াটা জরুরি। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে এমন ধরনের বিস্কুটে প্রচুর মাত্রায় চিনি থাকে। সেই সঙ্গে কৃত্রিম  রং-ব্যবহারও করা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই শরীরে পক্ষে ভাল হয় না। তাই সাবধান থাকাটা জরুরি।

আপনার মন্তব্য

advertisement