অন্যকে জানাতে পারেন:

জয়নাল হাজারী। ছবি: সংগৃহীত

জয়নাল হাজারী


খবরে প্রকাশ আমাদের প্রধান বিচারপতি সিনহাবাবু এক মাস ছুটি নিয়েছেন। তাকে ছুটি নিতে হবে আরও তিন মাস। তারপর চিরছুটিতে চলে যাবেন। অর্থাৎ অবসরে যাবেন। তবে আদালতের অবকাশকাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। সেজন্যই একইভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে সিনহাবাবুকে ছুটিতে যেতে হবে।

কেন এমন হলো?
সংসদের গত অধিবেশনে যেভাবে কথাবার্তা হয়েছে তাতে আরও ভয়ংকর কিছু ঘটে যাওয়া অসম্ভব ছিল না। তিনি সরকারের বিরাগভাজন হয়েছেন। এটা  দিবালোকের মত সত্য। বিচারপতিদের  রায় অনেক সময় সরকারের পক্ষে যায় আবার বিপক্ষেও যায়। সিনহাবাবুর অঙ্গভঙ্গিতে এমন একটি সম্ভবনা সৃষ্টি হয়েছিল যাতে মনে হয়েছিল পাকিস্তানের মত কোন একটা কিছু ঘটতে পারে। যদিও বাংলাদেশের পরিবেশটা সেরকম নয়। একটা পর্যায়ে সিনহাবাবুও এটি অনুমান করতে পেরেছিলেন। সেই কারণেই ঈদের দিনে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে রাষ্ট্রপতিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন। কিছু কিছু ঘটনায় মনে হয়েছিল ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়েছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ব্যাপরটি আরও দূরত্ব সৃষ্টি করেছিল। কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে সঠিকভাবে আঘাতটি করে ফেলেছেন সরকার পক্ষ।

সরকার পক্ষ মনে করেছে এখনই আঘাত না করলে বিচারপতি তার আঘাতটি করে ফেলবে। ফলে প্রথম আঘাতকারীই জয় লাভ করেছে। সুদুরপ্রসারী কোন প্রতিক্রীয়ায় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিনা সেটি বলার সময় এখনও আসেনি। এ ব্যাপারে ভারতের কোন প্রতিক্রীয়া আছে কিনা তা এই মূহুর্তে জানা না গেলেও ভারতের অর্থমন্ত্রী জেটলি এ নিয়ে কিছু নাড়াচাড়া করবেন কিনা সেটি কয়েকঘন্টার মধ্যেই বুঝা যাবে। জেটলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং সরকার পক্ষে কথা বলার ক্ষমতা রাখেন। এদিকে সিনহাবাবুর পক্ষে গুরুত্বর কিছু দূর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে এবং সেগুলো এই মূহুর্তে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

সিনহাবাবু না ফিরলে আমাদের কি হবে?
আইনমন্ত্রী বলেছেন তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত তাই তাকে  ছুটি দেয়া হয়েছে। এটি কেহই বিশ্বাস করে না। এটাতো জোর করে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে সবাই বুঝতে পারে। অন্যদিকে বিএনপি পক্ষ বলেছে জোর করে তার অনিচ্ছায় ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বিগত দিনে তদবিরের গুণে তিনি প্রধান বিচারপতির পদটি অলংকিত করতে পেরেছিলেন। ১/১১’র সময় তিনি যখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন এবং তখনকার সামরিক শাসকরা তাকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন, তখন তিনি বিদেশী তদবিরের কারণে রক্ষা পেয়েছিলেন। সিনহাবাবুর ক্যান্সার এটা প্রোস্টেট ক্যান্সার । দশ বছর থেকেই এটা চলছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর তিনি সিঙ্গাপুর আসা-যাওয়া করেন। এই ক্যান্সার অন্য কোথাও বিস্তার হয় না। ফলে এই সমস্যা নিয়েই একটি লোক সারাজীবন চলতে পারে। বিচারপতি হিসেবে তার আমলে একটি বড় অনিয়ম আছে। একটি মামলায় একজন আসামীর দশ বছর সাজা হয়েছিল এই সাজা হাইকোর্টে বহাল ছিল সুপ্রিমকোর্টও বহাল রেখেছিল রিভিউতেও একই ফলাফল বহাল ছিল।

অর্থাৎ এই মামলায় আর কোন আদালতে যাওয়ার সুযোগ নাই। কিন্তু  সেই মামলায় এই সিনহাবাবু নিজামকে জামিন দিয়েছিলেন। এই জামিন দেয়াটি সিনহাবাবুকে হাইকোর্ট অঙ্গনে বিতর্কিত করে রেখেছিল। এখন সিনহাবাবুর ক্ষমতা না থাকলে ব্যাপারটি ভয়ংকর কোনোদিকে মোড় নিতে পারে। হাইকোর্ট অঙ্গনে এই ধরনের কোন ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটে নাই। এটি ভুলক্রমে না দূর্নীতি করে ঘটানো হয়েছে সেটিও এখন বেরিয়ে যেতে পারে। মোটকথা সিনহাবাবুকে নিয়ে যে ঘটনা ঘটে গেলো তাতে সরকার বিপদমুক্ত হয়েছে না সংকট আরও ঘনিভূত হয়েছে তা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে জানুয়ারীর প্রথম দিকেই সবকিছু ফয়সালা হয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য

advertisement