বাংলা ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

বাংলাদেশের ম্যাপ

ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের এক রাজ্যের মানুষ যাতে অন্য রাজ্যে যেতে পারে তার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়। এজন্য তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন, যাতে তিনি বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলেন।

তথাগত রায় বলেন, যারা ভারতেরই এক শহর থেকে অন্য শহরে যান, তাদের জন্য এই সুবিধা থাকা উচিত। এর যুক্তি হিসেবে তিনি বলেছেন, রাশিয়ার একটি অংশ থেকে কালিনিগ্রাড যেতে গেলে বেলারুশ আর লিথুয়ানিয়ার উপর দিয়ে যেতে হয়।

বেলারুশ আর লিথুয়ানিয়া সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর স্বাধীন। কিন্তু এর উপর দিয়ে রাশিয়ার দুই শহরে যাতায়াতকারীদের পাসপোর্ট ভিসা লাগে না। দুই জার্মানির পুনরায় একত্রিত হওয়ার আগে যাত্রীর টিকিটে ছাপ মেরে পূর্ব আর পশ্চিমের মাঝে যাতায়াত করা যেত।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ রকম একাধিক নজীর আছে যেখানে, কেন ভারতের দুটি শহরের মধ্যে অবিভক্ত ভারতের একটা অংশের মধ্যে দিয়ে ভিসা ছাড়া যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবে না?

 ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়

সড়কপথে আগে আগরতলা থেকে কলকাতা যেতে গেলে পাড়ি দিতে হত ১৬০০ কিলোমিটার। কিন্তু ঢাকার মধ্যে দিয়ে আনুমানিক ৫০০ কিমি অতিক্রম করেই ওই দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত করা যায়। ২০১৫-র ৬ জুন বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে এই দুই রাজ্যের মধ্যে বাস পরিষেবা শুরু হয়। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পতাকা নেড়ে ওই যাত্রার শুভারম্ভ করেন।

আখাউরা স্থলবন্দর সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড দিয়ে ঢোকে আগরতলাগামী বাস। নিরাপত্তার অভাবের জেরে বেশ কিছুদিন ওই বাসে পর্যাপ্ত যাত্রী জোটেনি। তার উপর চেকপোস্টে ভিসা পরীক্ষা এবং আনুষঙ্গিক কাজের জন্য অনেকটা সময় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। এ সব খতিয়ে বিমানের ভাড়ার তুলনায় কলকাতা আগরতলার বাসের ভাড়া মোটেই কম নয় বলে যাত্রীদের অনেকের অভিযোগ।

ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর-চোপরার কাছে তেঁতুলিয়া করিডর প্রসঙ্গেও সুষমা স্বরাজকে চিঠি দিয়েছেন তথাগতবাবু। ভারতের আবেদনে বাংলাদেশ সরকার সেখানে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু বানিয়ে দিলে ওই অঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গ-ত্রিপুরার সড়কপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। তথাগতবাবু বলেন, প্রকল্পটি হলে উপকৃত হবেন উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশের লোক।

আপনার মন্তব্য

advertisement