বাংলা ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

ছবি: ইন্টারনেট

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ধূমপানের কুফল হিসেবে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালী সরু হয়ে হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা, যৌন ক্ষমতা হ্রাসসহ নানা ক্ষতিকর দিক রয়েছে ধূমপানের। অনেকেই ধূমপান নামক এই ঘাতককে চিরতরে নির্বাসনে দিতে চান কিন্তু নানা কারণে ধূমপান আর ছাড়া হয় না। রাস্তাঘাট, অফিস, স্কুল সর্বত্র পোড়া সিগারেটের টুকরো পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু জানেন কি, সিগারেটের এই পোড়া টুকরো থেকে তৈরি হতে পারে চকচকে রাস্তা? 

অবাক হচ্ছেন তো। সম্প্রতি একটি গবেষণায় এমনই তথ্য মিলেছে। গবেষকদের দাবি, রাস্তা তৈরিতে যদি পোড়া সিগারেটে টুকরো ব্যবহার করা হয়, তাহলে একদিকে যেমন বর্জ্য পদার্থের পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হবে, তেমনি শহরাঞ্চলে কমবে গরমও।

সারা বিশ্বেই নেশার সামগ্রী হিসেবে সিগারেট ব্যবহার বহুল প্রচলিত। কিন্তু, ধুমপানের পর সিগারেটে যে পোড়া অংশটি অবশিষ্ট থাকে, সেটি ফেলে দেন ধুমপায়ীরা। এভাবেই প্রতি বছর কোটি কোটি সিগারেটের পোড়া টুকরো প্রকৃতিতে জমা হতে থাকে। কিন্তু, এই পোড়া সিগারেটের টুকরোগুলি প্রকৃতিতে পুরোপুরি মিশে যেতে বহু বছর লেগে যায়। আর দীর্ঘ সময় ধরে সিগারেটের বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে খালবিল, নদী ও সমুদ্রে। প্রবলভাবে দুষিত হয় প্রকৃতি। 

এই দুষণ কীভাবে রোখা যায়, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, পোড়া সিগারেটের টুকরোয় অ্যাশফল্টের একটি বিশেষ ধরনের মিশ্রণ থাকে। যা অনায়াসেই রাস্তার ভারী গাড়ি চলাচলের চাপ সামলে দিতে পারবে। বস্তুত, রাস্তা তৈরির উপযোগী করে তোলার জন্য সিগারেটের টুকরোর সঙ্গে মোম ও বিটুমেন মেশান গবেষকরা। পরে তা চোবানো হয় গরম অ্যাশফল্টের মিশ্রণে। 

গবেষকদের দাবি, পরিবর্তিত এই সিগারেটের টুকরো অনায়াসে রাস্তা-সহ যেকোনও নির্মাণকাজে ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, রাস্তা তৈরিতে সিগারেটের পোড়া টুকরোর ব্যবহার শুরু হলে পরিবেশ দুষণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলেও মনে করছেন গবেষকরা।

প্রসঙ্গত, সিগারেটের পোড়া টুকরো থেকে পরিবেশ দুষণ কীভাবে ঠেকানো যায়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা। এর আগে ইট তৈরিতে সিগারেটের পোড়া টুকরো ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা।

আপনার মন্তব্য

advertisement