বাংলা ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

ফাইল ছবি

প্রতিটা মানুষের যৌন চাহিদা এবং যৌন আকাঙ্ক্ষার পরিমাণ আলাদা। শরীরের কৌলিন্য এখন আর শুধুমাত্র পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক নারীও শরীর নিয়ে সমান সচেতন। আবার তেমনই আবেগপ্রবণ। বিশেষ করে হাতের কাছে যখন নেট নামক বস্তুটি সহজলভ্য। আঙুলের ছোঁয়াতেই খুলে যায় জ্ঞানের দরজা। বিনোদনের হরেক উপাদান। আর এই বিনোদনের বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা পর্ন ভিডিওর। বাহ্যিক সভ্য সমাজ মানুক আর না মানুক, ব্যক্তি বিশেষে অনেকেই হয়তো সায় দেবেন এই কথায়। যৌনতার ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে কোনও অংশে কম যান না নারীরা।

কিন্তু নারীদের এই পর্নাসক্তি কেন হয়? কেনই বা তারা বাস্তবের সুখ ছেড়ে ভারচুয়াল যৌনতার প্রতি অতিরিক্ত টান অনুভব করেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একটা বড় কারণ মেয়েদের একাকীত্ব। আধুনিক জীবনে বেশিরভাগ নারীই স্বাবলম্বী। তাই তারা পুরুষের উপর নির্ভরশীল নন। কিন্তু একা বাঁচতে গিয়ে মহিলারা বেশিরভাগ সময়ই অবসাদে ভোগেন। আর এই অবসাদ তাদের আসক্ত করে তোলে পর্ন ভিডিওতে।

পর্নোগ্রাফিতে নারীদের এই আসক্তি বাড়ার কারণ কি কিংবা অন্য বিনোদনের চেয়ে মহিলাদের মধ্যে নীল ছবি দেখার প্রবণতা কেন বেশি- গবেষণায় তা নিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। এক জনপ্রিয় ব্রিটিশ সেক্স টয় প্রস্তুতকারক সংস্থা এই সমীক্ষা চালিয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, শতকরা আট ভাগ মহিলা অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখেন এবং তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একা একা দেখতে পছ্দ করেন। দেখা গেছে, বেশিরভাগ মহিলারা পর্নোগ্রাফি দেখলেও স্বীকার করেন না। যারা স্বীকার করেছেন তাদের সংখ্যাটা নেহাতই কম। মাত্র ৩০০ জন নারী পর্নোগ্রাফি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। ওই মহিলারা জানিয়েছেন, তারা কেন পর্নোগ্রাফি ভালোবাসেন এবং উপভোগ করেন। এমন পাঁচটি কারণ হল-

(১) যেসব দম্পতি বা জুটি সপ্তাহে একদিন পর্নোগ্রাফি দেখেন তারা তুলনামূলক বেশি সুখী হন। শতকরা ৫৮ শতাংশ নারী তার সঙ্গীর সঙ্গে এই ধরনের ছবি দেখতে পছন্দ করেন এবং দেখার পরে তারা এও বলেছেন যে পর্ন দেখার ফলে তাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। সঙ্গীর সঙ্গে শয্যায় যাওয়ার আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয় প্রাপ্তবয়স্কদের ছবি।

(২) যারা নীল ছবি দেখেন সেই সব নারীরা মনে করেন, দেখা পরেও তারা সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করে না। বিশ্বাসভঙ্গের কোনও কাজেই নাকি আগ্রহ বাড়ায় না পর্ন।
 
(৩) পর্ন দেখতে আগ্রহী বেশিরভাগ নারীরা মনে করে এই ছবি দেখলে তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করেনা। ২৩ শতাংশ নারী মনে করে পর্ন তাদের মনকে চাঙ্গা করে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, যারা পর্নোগ্রাফি দেখেন তাদের শতকরা ৫০ শতাংশের পরের দিন অঙ্ক পরীক্ষা ভালো হয়।

(৪) প্রায় ৪০ শতাংশ নারী পর্নোগ্রাফি দেখে তাদের বর্তমান সঙ্গীর প্রতির অতিরিক্ত টান অনুভব করেন। এতেই তারা বেশি আনন্দ পায়।

(৫) তবে ৫৭ শতাংশ নারীরা একা পর্নোগ্রাফি উপভোগ করতে পছ্দ করেন। এক্ষেত্রে যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৪ তারা এগিয়ে রয়েছেন।

অতিরিক্ত পর্নে আসক্তিও আবার ভাল নয়। গবেষকরা বলছেন, অধিকাংশ পর্ন ভিডিওতে অতিনাটকিয়তা দেখা যায়। যৌনাঙ্গ নানা কৃত্রিম উপায়ে বর্ধিত করা হয়। এর ফলে মহিলাদের মনে যৌনতা নিয়ে একটা ফ্যান্টাসি তৈরি হয়। যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। আর এখানেই বাধে বিপত্তি। মহিলাদের শারীরিক ও মানসিক দুই চাহিদাই অপূর্ণ থেকে যায়। ফলে তারা বাস্তবের যৌন সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং ভারচুয়াল পর্ন ভিডিওতে বেশি আসক্ত হয়ে পড়েন। বাস্তবিকতা যতটা নারীকূল বুঝতে পারবেন, ততই তাদের চাহিদা কমবে। আর চাহিদা কমলে পর্যাপ্ত জোগানেই তারা সন্তুষ্ট থাকতে পারবেন। যা দীর্ঘমেয়াদি সুখের চাবিকাঠি।

আপনার মন্তব্য

advertisement